হাইপার অ্যাক্টিভ শিশুর লক্ষণ চেনার উপায় ও করণীয়
প্রথমেই আমরা চিনে নিব হাইপার অ্যাক্টিভ শিশু কাকে বলে হাইপার একটিভ শিশু হলো। তারা যারা অতি চঞ্চল প্রকৃতি শিশু।তারা এক জায়গায় শান্তভাবে বসে থাকতে পারে না এবং বেশিরভাগ সময় মনোযোগ ধরে রাখতে কষ্ট হয় তাদের।
পেজ সুছিপত্রঃ হাইপার অ্যাক্টিভ শিশুর লক্ষণ চেনার উপায় ও করণীয়
- হাইপার অ্যাক্টিভ শিশুর লক্ষণ চেনার উপায় ও করণীয়
- কোন শিশু হাইপার অ্যাক্টিভ হয়ে পড়ে
- হাইপার অ্যাক্টিভ ও সাধারণ চঞ্চল শিশুর মধ্যে পার্থক্য
- কোন বয়সে হাইপার অ্যাক্টিভিটির লক্ষণ বেশি দেখা যায়
- হাইপার অ্যাক্টিভ শিশুর আচরণ নিয়ন্ত্রণের উপায়
- হাইপার অ্যাক্টিভ শিশুকে সামলানোতে বাবা মায়ের করণীয়
- খাদ্যভ্যাসে হাইপার অ্যাক্টিভিটির প্রভাব
- হাইপার অ্যাক্টিভ শিশুর প্রধান লক্ষণ গুলো কি
- কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন
- হাইপার অ্যাক্টিভ শিশুর সঠিক যত্ন ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন
হাইপার অ্যাক্টিভ শিশুর লক্ষণ চেনার উপায় ও করণীয়
হাইপার অ্যাক্টিভ শিশু অথবা অতি চঞ্চল শিশু গুলোকে চেনার উপায় গুলো হলো তারা খুবই
চঞ্চল হয়। স্থির থাকতে চাই না,তারা কথা শুনেনা,অমনোযোগী থাকে
বেশি ভাগ,উশৃংখল হয়ে থাকে,হাইপার একটিভ শিশুর জেদ অনেক হয়ে থাকে। এইগুলো
লক্ষণ বুঝে এর প্রতিরোধ না করা হলে শিশু অন্য ঝুঁকিপূর্ণ দিক চলে যেতে
পারে।
এইটা মূলত ব্রেনের সামনের দিকে একটা কেমিক্যাল থাকে নোরাড্রেনলিন এবং
ডোপামিন তো এই দুটা ক্যামিকেল যখন কম থাকে তখন বাচ্চারা অতি চঞ্চল হয়ে যায়।
গুলোকে আমরা বলে বুঝিয়ে কমানো যাবে না এর জন্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শে ওষুধ
খাওয়ানোর প্রয়োজন। আমরা অনেকেই মনে করি ছোট বাচ্চারা সাধারণত চঞ্চল হয়ে থাকে
এটা আবার সমস্যার কিছুইনা কিন্তু এটাই ভবিষ্যতে সমস্যার বড় কারণ হয়ে যেতে পারে
তাই অবশ্যই আপনারা এই বিষয়ে সতর্ক থাকবেন।
কোন শিশু হাইপার অ্যাক্টিভ হয়ে পড়ে
সাধারণত যে সকল শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ জনিত সমস্যা থাকে বা পরিবেশগত কিছু
প্রভাবের কারণেও একজন হাইপার অ্যাক্টিভ শিশু হয়ে উঠতে পারে। তারপর অতিরিক্ত স্ক্রিন
এর সামনে থাকা যেমন ফোন,ল্যাপটপ বা ডেক্সটপ ইত্যাদি কারণে বাচ্চার ঘুম কম হতে
থাকে তখন তার মানসিক চাপ বৃদ্ধি পায় এতে করে সে বাচ্চ হাইপার একটিভ শিশুতে
পরিণত হতে পারে।
আরও পরুনঃ হাইপার অ্যাক্টিভ শিশু কাকে বলে
তাছাড়াও আমরা জানি যে ব্রেনের সামনের অংশে একটা কেমিক্যাল থাকে নোরাড্রেনলিন এবং ডোপামিন যা হ্রাস পাওয়ার কারণে
একটি শিশু হাইপার অ্যাক্টিভ হয়ে হতে পারে।আমাদের উচিত এইসব হওয়ার কারণে যে
বাচ্চার হাইপার অ্যাক্টিভ হয়ে যায়।এতে ডাক্তারের পরামর্শে বাচ্চাকে ওষুধ
খাওয়ানো এবং নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা।
হাইপার অ্যাক্টিভ ও সাধারণ চঞ্চল শিশুর মধ্যে পার্থক্য
অনেক বাচ্চারা সাধারণত চঞ্চলই হয় কিন্তু তা অত্যাধিক হয়ে গেলে তাকে হাইপার অ্যাক্টিভ অথবা অত্যাধিক চঞ্চল শিশু বলে গণ্য করা হয়। তাই আমাদেরকে বুঝে নিতে হবে কোনটা হাইপার অ্যাক্টিভ ও কোনটা সাধারণ চঞ্চল শিশু।প্রথমত সাধারণ চঞ্চল শিশুরা মাঝে মাঝে দৌড়ঝাপ করে কিন্তু হাইপার একটিভ শিশু প্রায় সবসময় অতিরিক্ত অস্থির থাকে।
এছাড়াও সাধারণ শিশু প্রয়োজন হলে কিছু সময় শান্ত থাকতে পারে কিন্তু হাইপার অ্যাক্টিভ শিশু শান্ত হয়ে বসে থাকতে খুব কষ্ট পায় আর তখন অস্থির হয়ে যায়।সাধারণ চঞ্চলতা বয়সের সঙ্গে কমে যেতে পারে কিন্তু হাইপার একটিভ আচরণ দীর্ঘসময় ধরে চলতে পারে। সাধারণ চঞ্চল শিশু খেলাধুলার সময় বেশি নড়াচড়া করে থাকে কিন্তু হাইপার একটিভ শিশু সবপরিস্তিতে অতিরিক্ত নড়াচড়া করে।
সাধারণ চঞ্চল শিশুর দৈনন্দিন জীবনে বড় সমস্যা সৃষ্টি করে না কিন্তু হাইপার অ্যাক্টিভিটির পড়াশোনা ও সামাজিক আচরণে প্রভাব ফেলে।
কোন বয়সে হাইপার অ্যাক্টিভিটির লক্ষণ বেশি দেখা যায়
হাইপার অ্যাক্টিভিটির লক্ষণ সাধারণত তিন থেকে ছয় বছর বয়সের বেশি স্পষ্টভাবে দেখা যায়। এই বয়সে শিশুরা বেশি দৌড়ঝাপ করে কিন্তু হাইপার অ্যাক্টিভ শিশুর আচরণ তুলনামূলক অনেক বেশি অস্থির হয়। স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর চার থেকে সাত বছর বয়সে লক্ষণগুলো আরো পরিষ্কার বোঝা যায় যেমন এক জায়গায় বসে থাকতে না পারা।
কিছু কিছু ক্ষেত্রে দুই থেকে তিন বছর বয়স থেকেই প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিতে পারে।বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু লক্ষণ কমতে পারে তবে মনোযোগের সমস্যা থাকতে পারে। লক্ষণগুলো যদি শিশুর দৈনন্দিন জীবনে বা শেখায় বাধা দেয় তাহলে শিশুর বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
হাইপার অ্যাক্টিভ শিশুর আচরণ নিয়ন্ত্রণের উপায়
হাইপার অ্যাক্টিভ শিশুর আচরণ নিয়ন্ত্রণের জন্য নিয়মিত রুটিন তৈরি করুন যেমন প্রতিদিন খাওয়া,ঘুম,পড়াশোনা ও খেলা নির্দিষ্ট সময় রাখলে শিশু শান্ত থাকতে শেখে। সহজ ও পরিষ্কার নির্দেশ দিন যেমন একসাথে অনেক কথা না বলা এইসব ছোট ছোট নির্দেশ দিলে শিশু সহজেই বুঝতে পারে। ভালো আচরণ এ প্রশংসা করুন যেমন শিশুর ভালো কাজের জন্য প্রশংসা বা ছোট পুরস্কার দিলে সে উৎসাহ পায়।
স্কিন টাইম কমিয়ে দেন যেমন মোবাইল বা টিভি,ল্যাপটপ,ডেক্সটপ ইত্যাদি। শারীরিক খেলাধুলার সুযোগ দিন দৌড়ানো লাফানো ইত্যাদি।ধৈর্য ভালোবাসা দেখান যেমন বকা না দিয়ে শান্তভাবে বুঝালে শিশুর আচরণ ধীরে ধীরে উন্নত হয়।
হাইপার অ্যাক্টিভ শিশুকে সামলানোতে বাবা মায়ের করণীয়
অপ্রয়োজনীয় শব্দ ভিড় ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ থেকে শিশুকে দূরে রাখুন।বাবা হোক বা মা, যে যার সামলানোর সময়ে যতটুকু পারবেন বাচ্চাকে শৃঙ্খলা আবদ্ধর মধ্যে রাখার চেষ্টা করবেন। ধৈর্য ধরে শিশুর সঙ্গে কথা বলবেন এবং রাগ না দেখিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করব।
অনেক সময় বাবা-মা অতি কাজের ব্যস্ততার কারণে খিটমিট হয়ে থাকে তখন বাচ্চাকে অত গুরুত্ব না দিয়ে তাদের একা ছেড়ে দেয় বা তাদের সাথে রাগান্বিত হয়ে কথা বলে। এতে করে বাচ্চার হাইপার অ্যাক্টিভ দিকটা এড়িয়ে যাই। তাই বাচ্চার দিকে অন্য কেউ খেয়াল রাখুন বা না রাখুক অন্ততপক্ষে বাবা-মাকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে তার শিশুর প্রতি।
খাদ্যভ্যাসে হাইপার অ্যাক্টিভিটির প্রভাব
একটি হাইপার অ্যাক্টিভ শিশুর শুধু আচার-আচরণের দিক নয় তার খাবারের দিকেও খেয়াল রাখতে হয়। যেমন অনিয়মিত খাবার খাওয়া সময় মত না খেলে বা অতিরিক্ত খেলে রক্তে শর্করা ওঠা নামা হয় ফলে আচরণে অস্থির দেখায়। পুষ্টিহীন খাদ্য খাওয়া যেমন প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারেলের অভাবে মস্তিষ্কের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা দুর্বল হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ হাইপার অ্যাক্টিভ শিশুর খাদ্য তালিকা
তারপর ক্যাফেইনযুক্ত পানিও অর্থাৎ চা,কফি,এনার্জি ড্রিংক এগুলো স্নায়ুকে উত্তেজিত করে হাইপার অ্যাক্টিভিটি বাড়াতে পারে।তারপর ফাস্টফুড প্যাকেট জাতীয় খাবারে থাকা কৃত্রিম রং ও প্রিজারভেটিভ আচরণে অস্থিরতা বাড়ে পারে। অতিরিক্ত মিষ্টি বা চিনিযুক্ত খাবার শিশুকে বেশি অস্থির চঞ্চল করতে পারে।
হাইপার অ্যাক্টিভ শিশুর প্রধান লক্ষণ গুলো কি
আমরা তো অনেকটাই হাইপার অ্যাক্টিভ শিশুর লক্ষণ জেনেছি কিন্তু এর মধ্যেও প্রধান লক্ষণগুলো জানা উচিত। হাইপার অ্যাক্টিভ শিশুর প্রধান লক্ষণের মধ্যে একটি হলো অতিরিক্ত অস্থিরতা। তারপর অতিরিক্ত কথা বলা যেমন প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কথা বলে এবং মাঝপথে থামতে চায়না।
অধর্যতা অপেক্ষা করতে পারে না যেমন লাইনে দাঁড়ানো বা পালা মেনে চলতে সমস্যা হয়। অপরিকল্পিত আচরণ যেমন না ভেবে দ্রুত কাজ করে ফেলে তারপর কথা কেটে দেওয়া বা হঠাৎ কাজ শুরু করা। তারপর সহজে বিভ্রান্ত হওয়া যেমন ছোট বা আশপাশের জিনিস এই মনোযোগ সরে যা।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন
হাইপার অ্যাক্টিভ শিশুর ক্ষেত্রে এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অবশ্যই উচিত। যেমন শিশুর অতিরিক্ত অস্থিরতা মনোযোগ একদমই ধরে রাখতে না পারলে।পড়াশোনা বা দৈনন্দিন কাজ করতে বারবার ব্যর্থ হলে।
অপ্রয়োজনীয় খুব বেশি দৌড়াদৌড়ি বা ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ করলে।পরিবার ও সহপাঠীদের সঙ্গে আচরণগত সমস্যা বাড়তে থাকলে।কথা শোনা বা নির্দেশ মানতে একেবারেই অনীহা দেখা দিলে আর এই লক্ষণ গুলো দীর্ঘদিন ধরে অব্যাহত থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
হাইপার অ্যাক্টিভ শিশুর সঠিক যত্ন ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন
হাইপার অ্যাক্টিভ শিশুর সঠিক যত্নে ধৈর্য ভালবাসা ও নিয়মিত রুটিন খুব গুরুত্বপূর্ণ।তাদের শক্তিকে সঠিক কাজে লাগাতে খেলাধুলা ও সৃজনশীল কাজে যুক্ত করা উচিত।শিক্ষা ও আচরণ উন্নয়নের জন্য শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমন্বিত সহায়তা প্রয়োজন।
তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে ছোট ছোট সফলতার জন্য প্রশংসা করা উচিত।নিয়মিত মানসিক সহায়তা ঐতিবাচক পরিবেশে তাদের ভবিষ্যৎ বিকাশে বড় ভূমিকা রাখে রাখবে।সঠিক নির্দেশনা পেলে তারা ভবিষ্যতে অত্যন্ত মেধাবী ও সফল হতে পারবে।
শেষ কথাঃ হাইপার অ্যাক্টিভ শিশুর লক্ষণ
হাইপার অ্যাক্টিভ শিশুর লক্ষণ দ্রুত চিহ্নিত করতে পারলে তার সঠিক যত্ন ও বিকাশ নিশ্চিত করা অনেক সহজ হয়।শিশুর আচরণ বুঝে ধৈর্য ভালবাসা ও সচেতনতার সঙ্গে পাশে থাকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে শিশুর সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলুন।
আমার মতে প্রতিটি শিশুই আলাদা,তাই হাইপার অ্যাক্টিভ শিশুর লক্ষণ বুঝে তার প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া জরুরী।সঠিক নির্দেশনা ও পরিবারের সহযোগিতায় শিশুর আচরণ অনেকটাই ইতিবাচকভাবে পরিবর্তন করা সম্ভব। সচেতন অভিভাকতাই পারে শিশুর সম্ভাবনাকে সুন্দরভাবে বিকশিত করতে।



দ্য গ্র্যান্ড গাইড বিডির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url