নতুন প্রবাসীদের জন্য দরকারি পরামর্শ যা অবশ্যই জানা উচিত

বিদেশে নতুন জীবন শুরু করা অনেকের জন্য স্বপ্ন পূরণের মতো হলেও এর সঙ্গে আছে নানা নতুন চ্যালেঞ্জ ও দুশ্চিন্তা।নতুন প্রবাসীরা অনেক সময় ভাষা,কাজ,ব্যবস্থা ও দৈনন্দিন জীবন যাপনের জন্য নানা সমস্যার মুখোমুখি হন।

নতুন-প্রবাসীদের-জন্য-দরকারি-পরামর্শ


তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আগে থেকেই জানা থাকলে প্রবাস জীবন অনেক সহজ ও সুন্দর হতে পারে।এই লেখায় নতুন প্রবাসীদের জন্য দরক এমন কিছু দরকারি পরামর্শ তুলে ধরা হয়েছে যা তাদের নতুন পথ চলাকে আরো সহজ করবে।

পেজ সূচিপত্রঃ নতুন প্রবাসীদের জন্য দরকারি পরামর্শ

নতুন প্রবাসীদের জন্য দরকারি পরামর্শ

নতুন দেশে পা রাখার পর অনেক কিছুই অচেনা ও চ্যালেঞ্জিং মনে হতে পারে,যা নতুন প্রবাসীদের জন্য স্বাভাবিক।প্রবাস জীবন সহজ করতে শুরু থেকেই কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন।স্থানীয় নিয়ম-কানুন,ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা থাকলে মানিয়ে নিতে অনেক সুবিধা হয়।

অর্থ সঞ্চয় নিরাপদ ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে আগে থেকে পরিকল্পনা করা জরুরী।পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা মানসিকভাবে শক্ত থাকতে সাহায্য করে।সঠিক সিদ্ধান্তই সফল হওয়ার সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।

নতুন প্রবাস জীবনের শুরুতে ছোট ছোট ভুল এড়িয়ে চলতে সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।অপরিচিত মানুষের সঙ্গে লেনদেন বা কোন কাগজের স্বাক্ষর করার আগে ভালোভাবে যাচাই করে নিন।নিজের কাজ সময় এবং খরচের সঠিক পরিকল্পনা করলে প্রবাস জীবন অনেক বেশি সহজ হয়ে ওঠে।

নতুন পরিবেশে ভালো মানুষদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুললে একাকীত্ব অনেকটাই কমে যায়।ধৈর্য ধরে এগিয়ে গেলে ধীরে ধীরে সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে।আসে পরিশ্রম করলে এটি হতে পারে সুন্দর ভবিষ্যতের পথ।

প্রবাসে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিকঠাক ভাবে প্রস্তুত 

প্রবাসে যাওয়ার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিকঠাক ভাবে প্রস্তুত রাখা। প্রথমেই আপনার পাসপোর্ট এর মেয়াদ পর্যাপ্ত আছে কিনা তা ভালোভাবে যাচাই করুন। আপনার ভিসা সঠিকভাবে অনুমোদিত হয়েছে কিনা এবং এর শর্তগুলো বুঝে নিন। জাতীয় পরিচয় পত্র ও জন্ম সনদের কপি সঙ্গে রাখুন।

শিক্ষাগত সনদপত্র ও মার্কশিটের মূল কপি এবং ফটোকপি প্রস্তুত রাখুন। চাকরির জন্য গেলে অফার লেটার,চাকরির চুক্তিপত্র ও কোম্পানির তথ্য সঙ্গে রাখুন। প্রয়োজন হলে সব গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ইংরেজিতে অনুবাদ ও সত্যায়িত করে নিন। আপনার মেডিকেলের রিপোর্ট ও টিকাদান সনদ সংগ্রহ করে রাখুন।
সব কাগজের একাধিক ফটোকপি এবং মোবাইল বা ইমেইলে ডিজিটাল কপি সংরক্ষণ করুন। জরুরী যোগাযোগের জন্য পরিবারের ফোন নাম্বার ও ঠিকানা লিখিতভাবে সঙ্গে রাখুন। প্রয়োজনের ট্রাভেল ইন্সুরেন্স ও ব্যাংক সংক্রান্ত কাগজপত্র প্রস্তুত রাখুন।

বিমানবন্দরে কোন সমস্যায় পড়লে দেখানোর জন্য সব কাগজপত্র একটি আলাদা ফাইলে সুন্দরভাবে সাজিয়ে রাখুন। যাত্রার আগে প্রতিটি ডকুমেন্ট আবার একবার ভালোভাবে যাচাই করলে প্রয়োজনীয় দুশ্চিন্তা ও ঝামেলা অনেকটাই কমে যাবে।

নতুন দেশে পৌঁছে প্রথমে কি কি কাজ করবেন

নতুন দেশে পৌঁছানোর পর প্রথমেই নিজের থাকার জায়গা নিশ্চিত করুন এবং ঠিকানাটি লিখে সংরক্ষণ করুন। স্থানীয় সিম কার্ড কিনে মোবাইল যোগাযোগে চালু করুন যাতে পরিবার ও প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা সহজ হয়। যত দ্রুত সম্ভব একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে নিন যাতে বেতন গ্রহণ ও দৈনন্দিন লেনদেনের সহজ হয়।

আপনার পাসপোর্ট,ভিসা ও অন্যান্য কাগজপত্র নিরাপদ স্থানে গুছিয়ে রাখুন। প্রয়োজন হলে স্থানীয় ইমিগ্রেশন বা নিবন্ধন অফিসে গিয়ে নিজের উপস্থিতি বা ঠিকানা নিবন্ধন করুন। কর্মস্থল বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় অনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করুন।

নিকটস্থ হাসপাতাল,ফার্মেসি ও জরুরী সেবা নম্বর জেনে রাখুন যাতে প্রয়োজনে দ্রুত সাহায্য পাওয়া যায়। স্থানীয় পরিবহন ব্যবস্থা যেমন বাস,ট্রেন বা মেট্রোর নিয়ম ও রুট সম্পর্কে ধারণা নিন। প্রয়োজনে জিনিসপত্র কেনার জন্য কাছাকাছি বাজার বা দোকানগুলো কিনে নিন।

নিজের এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জরুরি বের হওয়ার পথ সম্পর্কে জেনে রাখা ভালো। স্থানীয় ভাষার কয়েকটি জরুরী শব্দ ও সাধারণ বাক্য শেখার চেষ্টা করুন যা শুরুতে অনেক কাজে আসবে। শুরুতেই পরিকল্পিতভাবে এসব কাজ সম্পন্ন করলে নতুন দেশের মানিয়ে নেওয়া অনেক সহজ ও সস্তিদায়ক হবে।

স্থানীয় ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা নিন

প্রবাসে নতুন দেশে গিয়ে স্থানীয় ভাষাও সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় ভাষার সাধারণ কিছু শব্দ ও দৈনন্দিন ব্যবহৃত বাক্য শিখে নিলে যোগাযোগ করা অনেক সহজ হয়। মানুষের সঙ্গে কথা বলার সময় তাদের আচার-আচরণ ও ভদ্রতার নিয়ম বুঝে চলার চেষ্টা করুন।

প্রতিটি দেশে নিজস্ব সংস্কৃতি,উৎসব ও সামাজিক রীতি-নীতি থাকে সেগুলো সম্পর্কে জানুন। স্থানীয় মানুষের জীবনধারা বুঝতে পারলে তাদের সঙ্গে সহজে সম্পর্ক গড়ে তোলা যায়। ভাষা জানলে বাজার কর্অ‌ফিসের কাজ বা দৈনন্দিন সমস্যার সমাধান অনেক দ্রুত করা সম্ভব হয়।
নতুন-প্রবাসীদের-জন্য-দরকারি-পরামর্শ


কোন আচরণ বা কথা সেখানে অশোভন মনে করা হয় কিনা তা আগে থেকে জেনে রাখা ভালো।স্থানীয় খাবার,পোশাক ও সামাজিক অভ্যাস সম্পর্কে ধারণা নিলে মানিয়ে নেওয়া সহজ হয়। ভাষা শেখার জন্য মোবাইল অ্যাপ,অনলাইন ক্লাস বা স্থানীয় কোর্সের সাহায্য নিতে পারেন।

ভুল করতে ভয় না পেয়ে ধীরে ধীরে কথা বলার অভ্যাস করলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে। স্থানীয় সংস্কৃতিকে সম্মান করলে মানুষ আপনাকে সহজে গ্রহণ করবে এবং সহযোগিতা করবে। ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকলে প্রবাস জীবন অনেক স্বস্তিদায়ক,নিরাপদ ও আনন্দময় হয়ে ওঠে।

নিরাপদ ও সাশ্রয়ী বাসস্থান বেছে নেওয়ার উপায়

প্রবাসে গিয়ে নিরাপদ ও সাশ্রয়ী একটি বাসস্থান খুঁজে নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাসা খোঁজার সময় প্রথমেই এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন তা ভালোভাবে যাচাই করুন। কর্মস্থল বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছাকাছি বাসা হলে যাতায়াতে সময় ও খরচ দুটোই কমবে।

বাসার ভাড়া বিদ্যুৎ,পানি ও ইন্টারনেট বিল কত হবে তা আগে থেকেই জেনে নিন আর এগুলো আছে কিনা তা খেয়াল রাখবেন। চুক্তিপত্র বা ভাড়ার এগ্রিমেন্ট ভালোভাবে পড়ে বুঝে তারপর সিদ্ধান্ত নিন দিয়ে স্বাক্ষর করবেন। বাসার আশেপাশে বাজার হাসপাতাল ও গণপরিবহন আছে কিনা তা খেয়াল করুন।

বাসার দরজা,জানালা,তালা ও অন্যান্য নিরাপদ ব্যবস্থা ঠিক আছে কিনা তা পরীক্ষা করুন। সম্ভব হলে বাসা নেওয়ার আগে প্রতিবেশী বা পরিচিত কারো কাছ থেকে এলাকার সম্পর্কে তথ্য নিন। অনলাইনে বাসা খুজলে প্রতারণা এড়াতে আগে যাচাই না করে কোন টাকা পাঠাবেন না।

শেয়ার বাসায় থাকলে সহবাসীদের আচরণ ও নিয়ম-কানুন সম্পর্কে জেনে নিন। নিজের বাজেট অনুযায়ী এমন বাসা বেছে নিন যাতে আর্থিক চাপ কম থাকে।সঠিকভাবে বাস্থান নির্বাচন করতে পারলে প্রবাস জীবনের শুরুটা অনেক সস্তিদায়ক ও নিরাপদ হবে।

অর্থ সঞ্চয় ও খরচ নিয়ন্ত্রণের কৌশল

প্রবাস জীবনে সফল হতে হলে শুরু থেকেই অর্থ সঞ্চয় ও খরচ নিয়ন্ত্রণের অভ্যাস করে তোলা খুবই জরুরী। প্রতিমাসে আয়-ব্যায়ের একটি বাজেট পরিকল্পনা তৈরি করুন এবং সেটি মেনে চলার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনীয় খরচ ও অপ্রয়োজনীয় খরচ আলাদা করে দেখলে টাকা কোথায় বেশি যাচ্ছে তা বোঝা সহজ হয়।

বেতন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট অংশ সঞ্চয়ের জন্য আলাদা করে রাখুন। অযথা বিলাসি খরচ কমিয়ে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসে গুরুত্ব দেন। বাসা ভাড়া,খাবার,যাতায়াত ও অন্যান্য খরচ হিসাব করে চললে আর্থিক চাপ কম থাকে।
সম্ভব হলে ডিসকাউন্ট,অফার বা সাশ্রয়ী কেনাকাটার সুযোগ কাজে লাগান। দেশে টাকা পাঠানোর আগে নিজের জরুরি খরচের জন্য কিছু অর্থ হাতে রাখুন। হঠাৎ কোনো সমস্যার জন্য জরুরী তহবিল (ইমারজেন্সি ফাউন্ড) গড়ে তোলা ভালো অভ্যাস। ব্যাংক অ্যাপ বা খরচ হিসাব রাখার অ্যাপ ব্যবহার করলে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়।

ধীরে ধীরে ছোট ছোট সঞ্চয় ভবিষ্যতে বড় সহায়তা হয়ে দাঁড়াতে পারে।সঠিকভাবে বাজেট পরিচালনা করলে প্রবাস জীবন হবে আরো স্থিতিশীল ও নিশ্চিন্ত ও পরিকল্পিত।

কাজের পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া টিপস

প্রবাসে নতুন কর্মস্থলে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া সফলতার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম থেকেই কর্মস্থলের নিয়ম-কানুন দায়িত্ব গুলো ভালোভাবে বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করুন। সময় মতো অফিস বা কর্মস্থলে উপস্থিত হওয়া এবং দায়িত্বশীল আচরণ করা ভালো অভ্যাস।

সহকর্মীদের সঙ্গে ভদ্র ও সম্মানজনক সম্পর্ক গড়ে তুলুন এতে কাজের পরিবেশ সহজ হয়। কোন বিষয় বুঝতে সমস্যা হলে দ্বিধা না করে সুপারভাইজার বা কর্মীদের কাছে জিজ্ঞাসা করুন। কাজের সময় সততা ধৈর্য ও পেশার দায়িত্ব বজায় রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় কর্মসংস্কৃতি ও আচরণবিধি সম্পর্কে ধারণা নিলে ভুল বোঝাবোঝি কম হয়।

নিজের কাজের মান উন্নত করতে নতুন কিছু শেখার মানসিকতা ধরে রাখুন। স্বকর্মীদের মতামত ও পরামর্শকে গুরুত্ব দিলে পারস্পরিক বিশ্বাস বাড়ে। কাজের চাপ বেশি হলে শান্ত থেকে পরিকল্পনা করে দায়িত্ব সম্পন্ন করার চেষ্টা কররে।

ব্যক্তিগত সমস্যা যেন কাজের উপর প্রভাব না ফেলে সেদিক খেয়াল রাখুন। কর্মস্থলে ভালো সম্পর্ক ও নিয়ম মেনে চললে প্রবাস জীবনে সফলতা অর্জন অনেক সহজ হয়ে যায়।

স্বাস্থ্য সেবা ও জরুরী সহায়তা সম্পর্কে জানুন

প্রবাসী সুস্থ ও নিরাপদ থাকতে স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা সম্পর্কে আগে থেকেই জানা খুবই জরুরী। আপনার কাছাকাছি হাসপাতাল,ক্লিনিক ও ফার্মেসি কোথায় আছে তা খুজে রাখুন। জরুরী পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য দেশের এম্বুলেন্স,পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের নাম্বার মোবাইলে সংরক্ষণ করুন।

সম্ভব হলে একটি ভালো স্বাস্থ্য বীমা (হেলথ ইন্সুরেন্স) করে নিন যাতে চিকিৎসা খরচ কমানো যায়। আপনার বীমা কোন কোন চিকিৎসা সেবা কভার করে তা ভালোভাবে বুঝে নিন। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও প্রেসক্রিপশন এর কপি সব সময় নিজের কাছে রাখুন।
স্থানীয় ভাষায় অসুস্থতা বা জরুরি অবস্থার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ শিখে রাখা উপকারী। কোন সাস্থ সমস্যা হলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কর্মস্থল বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাস্থ্য সেবা সুবিধা থাকলে সেগুলো সম্পর্কে জেনে নিন।

মানসিক চাপ বা একাকিত্ব অনুভব করলে কাউন্সিলিং বা সহায়তা সেবা নেওয়ার কথা ভাবুন। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন প্রবাস জীবনে আপনাকে সক্রিয় রাখবে। স্বাস্থ্য সেবা ও জরুরি সহায়তা সম্পর্কে সচেতন থাকলে প্রবাসে আপনি আরো বেশি আত্মবিশ্বাসী ও নিরাপদ বোধ করবেন।

পরিবার ও প্রিয়জনের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখুন

প্রবাস জীবনে মানসিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য পরিবার ও প্রিয়জনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত কথা বললে একাকীত্ব ও মানসিক চাপ অনেকটাই কমে যায়। মোবাইল,ভিডিও কল বা মেসেজের মাধ্যমে প্রতিদিন বা নির্দিষ্ট সময়ে যোগাযোগের অভ্যাস গড়ে তুলুন।

পরিবারকে নিজের কাজের অবস্থা ও দৈনন্দিন জীবনের খবর জানালে তারা নিশ্চিন্তে থাকে। দুঃখ কষ্ট বা সমস্যার সময়ে পরিবারের সঙ্গে শেয়ার করলে মানসিক চাপ হালকা হয়। ব্যস্ততার মাঝেও সপ্তাহে অন্তত একবার দীর্ঘ সময় ধরে কথা বলার চেষ্টা করুন।
নতুন-প্রবাসীদের-জন্য-দরকারি-পরামর্শ


সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে প্রিয়জনদের সঙ্গে যুক্ত থাকা সহজ। ভালো খবর ও সাফল্য পরিবারকে জানালে আত্মবিশ্বাস ও অনুপ্রেরণা বাড়ে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে মানসিকভাবে হতাশা বা একাকীত্ব বাড়তে পারে।

পরিবারের দোয়া ও সমর্থন প্রবাস জীবনে এগিয়ে যেতে শক্তি যোগায়। সময় ব্যবস্থাপনা করে যোগাযোগ রাখলে কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য বজায় থাকে। নিয়মিত যোগাযোগ প্রবাস জীবনকে আরো সহজ,আনন্দময় ও মানসিকভাবে স্থিতিশীল করে তোলে।

সতর্কতা ও আইনি সমস্যার বিষয়ে সতর্ক থাকুন

প্রবাস জীবনে নিরাপদ থাকতে সব সময় স্থানীয় আইন-কানুন ও নিয়মাবলী সম্পর্কে সতর্ক থাকা খুবই জরুরী। ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে বা অবৈধভাবে কাজ করলে গুরুতর আইনি সমস্যায় পড়ার ঝুঁকি থাকে। নিজের সব কাগজপত্র যেমন পাসপোর্ট,ভিসা, ওয়ার্ড পারমিট সবসময় বৈধ ও আপডেট রাখুন।

অচেনা বা অবৈধ এজেন্ট এর মাধ্যমে কোন কাজ বা চুক্তিতে না জড়ানোই নিরাপদ। কর্মস্থলে চুক্তির শর্ত ঠিকমত বুঝে তারপর কাজ শুরু করুন। কোন সমস্যাই পড়লে দ্রুত স্থানীয় আইনগত সহায়তা বা দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

অতিরিক্ত কাজের চাপ বা শোষণের শিকার হলে তা চুপ করে না থেকে রিপোর্ট করা উচিত। স্থানীয় ট্রাফিক আইন,জনসমক্ষে আচরণ ও সামাজিক নিয়ম মেনে চলা জরুরী। অন্যের নামে কোন আর্থিক লেনদেন বা অবৈধ কাজের জড়ানো থেকে সব সময় দূরে থাকুন।

নতুন প্রবাসীরা অনেক সময় প্রতারণার শিকার হয়,তাই সব কিছুই যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিন। আইন ভঙ্গ করলে শুধু জরিমানা নয় চাকরি ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে পড়তে পারে। সতর্ক থেকে চললে প্রবাস জীবন হবে নিরাপদ,সম্মানজনক ও দীর্ঘমেয়াদে সফল।

শেষ কথাঃ নতুন প্রবাসীদের জন্য দরকারি পরামর্শ

প্রবাস জীবন সফল করতে সঠিক পরিকল্পনা ধৈর্য এবং নিয়মকানুন মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।ছোট ছোট বিষয় যেমন কাগজপত্র,বাসস্থান কাজ ও যোগাযোগ সবকিছুর প্রতি যত্নবান হলে জীবন অনেক সহজ হয়। সচেতনতা ও পরিশ্রম থাকলে প্রবাস জীবন শুধু আয়ের মধ্যে নয় বরং একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ হয়ে ওঠে।

নতুন প্রবাসীদের জন্য দরকারি পরামর্শ হিসেবে আমার মতে,প্রবাসে যাওয়ার আগে সঠিক প্রস্তুতি নিলে অনেক সমস্যা আগে এড়ানো যায়। আমি মনে করি ভাষা ও সংস্কৃতি শেখার চেষ্টা করলে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া আরো সহজ হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ধৈর্য ধরে পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে যাওয়া তাহলেই সফলতা নিশ্চিত হয়।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

দ্য গ্র্যান্ড গাইড বিডির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

Diya Unnahar Nur
Diya Unnahar Nur
একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও অর্ডিনারি আইটির সিনিয়র সাপোর্ট ইঞ্জিনিয়ার। তিনি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। ৫ বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি শিক্ষার্থীদের অনলাইনে সফল হতে সহায়তা করে যাচ্ছেন।